ইরানে চলমান নজিরবিহীন অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রক্তক্ষয়ী অভিযানের প্রেক্ষাপটে তেহরানের ওপর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হামলার বেশ কিছু কৌশলগত বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পেন্টাগনের এই পরিকল্পনায় শুধু প্রথাগত যুদ্ধ নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বহুমুখী আক্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসির।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এছাড়া ইরানের শক্তিশালী নেতৃত্ব কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল করে দিতে উন্নত বিমান শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। সরাসরি হামলার পাশাপাশি সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির মাধ্যমে ইরানি প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন পেন্টাগন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার(১৩ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের এক চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় নীতি ঘোষণা দিয়েছেন। এই আদেশ অনুযায়ী যেসব দেশ ইরানের সাথে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে তাদের পণ্যের ওপর এই বিশাল শুল্ক কার্যকর হবে। এটি তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, ভারত, তুরস্ক ও আমিরাতের মতো দেশগুলোকে বড় সংকটে ফেলবে। ট্রাম্পের মতে আলোচনার চেয়েও বড় কোনো পদক্ষেপ বৈঠকের আগেই নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী গত তিন সপ্তাহে ইরানে বিক্ষোভে ৬৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইরানের শাহজাদা রেজা পাহলভি ট্রাম্পকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এই অস্থিরতার জন্য বিদেশি ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেছেন। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন মনে করলে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে কোনো দ্বিধা করবে না।
আরটিভি/এআর





