ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের মধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির ভবিষ্যত নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, ইরানের সরকার খুব শিগগিরই পতিত হতে পারে। তার মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা শুধুমাত্র বলপ্রয়োগের ওপর টিকে আছে, যা তাদের শিগগির পতনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের সরকার এখন শেষ দিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভারত সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, যে কোনো সরকার যদি কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, তাহলে তার অবসান নিশ্চিত। আমি বিশ্বাস করি আমরা এখন সেই শেষ কয়েকটি দিন এবং সপ্তাহ প্রত্যক্ষ করছি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব জনগণের বৈধ সমর্থন হারিয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই অস্থিরতার অবসানে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে। তিনি জানান, বার্লিন ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছে এবং তারা চাইছে ইরানে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্ভব হোক।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কূটনীতি তাদের প্রথম পছন্দ হলেও প্রয়োজন পড়লে বিমান হামলা সহ অন্যান্য সামরিক বিকল্প এখনও টেবিলে রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বলেছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভের কারণে সরকার ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে, তাই যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সাম্প্রতিক দিনে ইরানে বড় আকারে বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চালানো হয়, যার ফলে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীরও অনেক সদস্য নিহত হয়েছেন। বিরোধী নেতারা নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেক বিক্ষোভকারী মারা গেছেন বলেও দাবি করছেন। তবে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভ পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, দেশটির শাসনব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এবং ভবিষ্যত রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।
আরটিভি/এসকে




