ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’কে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই গোষ্ঠীটি ইরানের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মার্কিন তৈরি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে যা দিয়ে তারা পরিকল্পিতভাবে গুপ্তহত্যা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর ছক কষেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। মঙ্গলবার(১৩ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
একই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার আবদোলরহিম মৌসাভি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব ইরানের ভেতরে হামলা চালানোর জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসআইএল বা আইসিসের সদস্যদের মোতায়েন করছে। আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌসাভি মনে করেন গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ছদ্মবেশে এই অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে দেশ দুটি।
মৌসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব বা আঞ্চলিক অখণ্ডতার কোনো ধরনের লঙ্ঘন বরদাস্ত করবে না। বিদেশি শক্তিগুলো যখন সরাসরি যুদ্ধে সুবিধা করতে পারেনি তখন তারা দেশের ভেতরে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে লেলিয়ে দিচ্ছে। তবে ইরানের এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার মাঝে এই গ্রেপ্তারের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ফলে সীমান্ত এলাকায় ইরানিয় বাহিনী নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িছে বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এআর





