ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের জেরে তেহরানে মার্কিন হামলার হুমকিকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই উত্তেজনার ফলে এই অঞ্চলে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে কাতার। মঙ্গলবার(১৩ জানুয়ারি) দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই মন্তব্য করেন। খবর এএফপির।
মুখপাত্র জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে। কাতার এখনো বিশ্বাস করেন যে আলোচনার মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব এবং দেশটি সব পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কাতার আবারও উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বানও জানিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে ইরানে সরাসরি বিমান হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তবে এই হুমকির জবাবে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের জন্য 'বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে গণ্য হবে। এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ যুদ্ধের ছায়া দেখছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ইরান। নিজ ভূখণ্ডে এমন নজিরবিহীন হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মাঝে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে মধ্যস্থতা করেছিল দোহা।
আরটিভি/এআর





