ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপককে তার নিজের ফ্ল্যাট থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত শিক্ষিকার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি তার হাতের শিরাও কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে ফ্ল্যাট থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত ওই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকার নাম দেবস্মিতা পাল। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে একা থাকতেন। তার স্বামী দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে থাকেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে নিউ অশোক নগর থানায় একটি ফোনকল আসে। ফোনটি করেছিলেন দেবস্মিতার বোন ৪৯ বছর বয়সী দেবারতি পাল। তিনি পুলিশকে জানান, তার বোনকে ফ্ল্যাটের ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল থেকেই ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং দেবস্মিতা পালের ফোনেও বারবার চেষ্টা করে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে কোনো অঘটনের আশঙ্কায় বোন দেবারতি পাল তালা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি তার বোনকে রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে দেবস্মিতার মাথায় আঘাত করা হয়েছিল। তার মাথায় গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া তার হাতের কবজির শিরাও কাটা অবস্থায় ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ স্থানীয় এলবিএস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ডাকাতি বা চুরির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। কারণ ফ্ল্যাটে থাকা গয়না ও নগদ অর্থ সব অক্ষত অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করেছে।
আরটিভি/এআর



