এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৫ লাখ রিয়াল, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইরানের মুদ্রা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে বলে ইরানি মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলো জানিয়েছে।
সম্প্রতি ইরানজুড়ে অস্থিরতা ও আর্থিক সংকটের মাঝেই দেশটির মুদ্রা রিয়ালের রেকর্ড দরপতন হয়েছে। মঙ্গলবার তেহরানের মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোতে (এক্সচেঞ্জ শপ) ডলারের বিপরীতে রিয়ালের এই রেকর্ড দরপতন দেখা যায়।
এতে ইরানের বিপুল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির মানুষ এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যে রয়েছে।
ইরানের নবনিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বাজার তার স্বাভাবিক গতিপথেই চলছে।
রিয়ালের মান কমে যাওয়া, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ও জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের দোকানদাররা প্রায় এক মাস আগে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সেই ঘটনার পর এবার মুদ্রার এই সর্বশেষ দরপতন দেখা গেল।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাস্তায় নামেন। ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে সেই বিক্ষোভ দমন করে।
দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় সেই দমনের প্রকৃত চিত্র এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। এটি ছিল ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।
ইরান সরকার জানিয়েছে, এই অস্থিরতায় অন্তত ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৪২৭ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বাকি নিহতদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। সংস্থাটির হিসাবে নিহত হয়েছেন ৫,৭৭৭ জন বিক্ষোভকারী, ২১৪ জন সরকারি বাহিনীর সদস্য, ৮৬ জন শিশু এবং ৪৯ জন এমন বেসামরিক নাগরিক, যারা বিক্ষোভে অংশ নেননি।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানের আন্দোলনকারীদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য যাচাই করে থাকে। এদিকে তেহরান দেশটির বিপর্যস্ত অর্থনীতি সামাল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
আরটিভি/এমআই




