মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে বিধিনিষেধের খড়্গ নামিয়ে আনল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার নতুন প্যাকেজ অনুমোদন করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নে জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থা এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি তেহরানের সমর্থনের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ইরানের প্রধান সামরিক শক্তি ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে ইইউ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আইআরজিসি-কে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বা আল-কায়েদার মতো কট্টরপন্থী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর কাতারে বিবেচনা করা হবে। এটি শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়াই নয়, বরং ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ইউরোপের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এক বিশাল এবং প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা তেহরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিতে পারে। তবে এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে ইইউভুক্ত দেশগুলোর আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা ও পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক তৎপরতার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে চীনের একজন শীর্ষ কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন যে, শক্তি প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক ‘দুঃসাহসিকতা’র বিরোধিতা করে বলেন, এ ধরনের যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত পুরো অঞ্চলটিকে অনিশ্চয়তার এক গভীর অতল গহ্বরে ঠেলে দেবে।
চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং সব পক্ষকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
চীনের পাশাপাশি রাশিয়াও ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করবে।
রাশিয়া ও চীন উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, উত্তেজনা বাড়ানো নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজতে হবে।
আরটিভি/এআর





