ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বিদেশিদের কঠোর হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের, অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি সংগৃহীত

ইউরোপের অন্যতম নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত ডেনমার্ক তাদের অভিবাসন নীতিতে এক আমূল ও কঠোর পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডেনিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে দেশটিতে বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি গুরুতর অপরাধে জড়িত হয়ে এক বছর বা তার বেশি সময়ের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তবে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক সংবাদ সম্মেলনে অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই নতুন পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার চেয়ে নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ডেনমার্ক এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। খবর আরব নিউজের।

আরও পড়ুন

ডেনমার্কের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গুরুতর মারধর, যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত অ-ডেনিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী, পারিবারিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক কনভেনশনের কারণে অপরাধীদের বহিষ্কার করা সবসময় সম্ভব হতো না। তবে ডেনমার্ক এখন ব্রিটেনসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে মিলে ‘ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন’ সংস্কারের জোরালো দাবি তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন বলেন, যখন এই আন্তর্জাতিক আইনগুলো তৈরি করা হয়েছিল, তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে বিশ্বের সেরা একটি দেশে এসে কেউ নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করতে শুরু করবে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রিত ব্যক্তিরাই এখন অপরাধীতে পরিণত হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছর বা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ৭০ শতাংশকে বর্তমানে বহিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে। তবে নতুন এই আইনি সংস্কারের মাধ্যমে এই হার শতভাগে নিয়ে যেতে চায় ডেনিশ প্রশাসন। শুধু বহিষ্কারই নয়, যারা বর্তমানে ডিপার্চার সেন্টার বা দেশত্যাগের কেন্দ্রে রয়েছেন, তাদের ওপর নজরদারি বাড়াতে ইলেকট্রনিক অ্যাঙ্কেল ট্যাগ বা বৈদ্যুতিন বেড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

এছাড়া ডেনমার্ক সরকার সিরিয়ায় তাদের দূতাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়।

ডেনমার্কের এই নতুন নীতি ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও ডেনিশ সরকার তাদের অবস্থানে অনড়।

সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, শরণার্থীরা ডেনমার্কে কেবল সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় পাবেন এবং স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে আর্থিক প্রণোদনাও বাড়ানো হবে। আগামী ১ মে থেকে এই নতুন সংস্কারগুলো কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিনের পরবর্তী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ক্রাউলি। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। 
১৭৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ গভর্নর পেল উইসকনসিন
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
মাত্র ছয় মাসের জন্য বিমানসেবিকার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন ক্যারল ফেয়ার। পরিকল্পনা ছিল, এরপর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন।
ছয় মাসের চাকরি, আকাশেই কেটে গেল ৬৩ বছর!
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই প্রার্থী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম ব্যক্তি নির্বাচিত সিনেটর হতে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন তিনি। বুধবার (৪ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফল ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পূর্বাভাসে তার বিজয় নিশ্চিত করা হয়। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয় পেয়েছেন তিনি। মিশরীয় পরিবারে জন্ম, বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে আবদুল এল-সায়েদের পূর্ণ নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ এল-সায়েদ। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসে তার জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই মিশরীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার বাবা মোহাম্মদ এল-সায়েদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ায়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান এবং ডেট্রয়েটের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করেন। তার মা ফাতেন এল-কোমি পেশায় একজন নার্স প্র্যাকটিশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে কর্মরত। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষে তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে ভর্তি হন। সেখানে জীববিজ্ঞান ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। এ সময় তিনি মর্যাদাপূর্ণ রোডস স্কলারশিপ লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রিও অর্জন করেন। জনস্বাস্থ্য থেকে রাজনীতির মাঠে পেশাগত জীবনে আবদুল এল-সায়েদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মহামারিবিদ ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেলথে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শহরটির আর্থিক সংকটের পর স্বাস্থ্য বিভাগ পুনর্গঠন এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে তিনি পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরানস সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। তবে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে। ২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন লাভ করেন তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি নিজের করে নেন। নীতিগত অবস্থান ও ঐতিহাসিক বিজয় নির্বাচনী প্রচারে আবদুল এল-সায়েদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবাকে সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং রাজনীতিতে করপোরেট অর্থ ও প্রভাব সীমিত করা। তিনি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তার বক্তব্য তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে। তার এই বিজয় শুধু মিশিগানের রাজনীতিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর মুসলিম ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম নির্বাচিত প্রতিনিধি যুক্ত হতে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত আবদুল এল-সায়েদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সদস্য নির্বাচিত হওয়া আবদুল এল-সায়েদের এই অর্জন অভিবাসী পরিবারগুলোর নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আরটিভি/টিআর
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
ওহাইওর পরবর্তী গভর্নর হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইনের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওহাইওর প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হলেন অ্যামি অ্যাক্টন
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস।
নিউইয়র্কের আইনসভায় নির্বাচিত হলেন প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নারী
আরও পড়ুন
ব্রাজিল-কিউবার ১৩ নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিসা-বিয়ে নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ
নতুন আইনে এবার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা 
দাপুটে পারফরম্যান্সে ডেনমার্ককে উড়িয়ে দিলো রোনালদো বিহীন পর্তুগাল
নতুন আইনে নাসাউ কাউন্টির সঙ্গে অভিবাসন সংস্থার চুক্তি বাতিল