ইসরায়েল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন চূড়ান্ত সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যারিয়েল সেইডম্যানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে প্রিটোরিয়া। খবর আল জাজিরার।
দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিভাগ (ডিআইআরসিও) তাকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এই কর্মকর্তা কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ আফ্রিকার সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য এবং প্রটোকল ভঙ্গের কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয় জানায়, সেইডম্যান সামাজিক মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বিরুদ্ধে অত্যন্ত ‘আক্রমণাত্মক আচরণ’ প্রদর্শন করেছেন। এর পাশাপাশি ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সফরের বিষয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পূর্ব তথ্য না দিয়ে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছেন।
ডিআইআরসিও তাদের বিবৃতিতে বলেন, এই ধরণের কর্মকাণ্ড দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য পারস্পরিক আস্থা ও প্রটোকলকে ক্ষুণ্ন করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ঘোষণার পাল্টা জবাবে ইসরায়েলও তাদের দেশে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শন এডওয়ার্ড বাইনোভেল্টকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। বাইনোভেল্ট বর্তমানে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রিটোরিয়া ও তেল আবিবের মধ্যে এই উত্তেজনার সূত্রপাত মূলত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটি শুরু থেকেই গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার শক্তি প্রয়োগ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার মনে করে, ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান এই নৃশংসতার প্রতিবাদ জানানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আরটিভি/এআর





