মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পেন্টাগন এখন কেবল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার ধীরগতি এবং ইরানের অনড় অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই সামরিক প্রস্তুতিকে তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে বিশাল এক সামরিক বহর মোতায়েন করা হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরি ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে অবস্থান নিয়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হতে দ্বিতীয় রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল হয়ে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে আসছে। এছাড়াও ৫০টিরও বেশি আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার বিভিন্ন কৌশলগত ঘাঁটিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বড় ধরনের অপারেশন চালানোর জন্য পুরোপুরি সক্ষম হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কূটনীতি সবসময়ই প্রথম পছন্দ, তবে ইরান যদি আলোচনায় আন্তরিক না হয় তবে সামরিক পথ বেছে নিতে তিনি দ্বিধা করবেন না।
লেভিট আরও বলেন, গত বছরের জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদোর মতো গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় বড় আঘাত হেনেছিল। তবে এবার মার্কিন লক্ষ্যবস্তু কেবল পারমাণবিক কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক হুমকিকে গুরুত্ব না দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এআই-নির্মিত একটি প্রতীকী ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে মার্কিন রণতরিকে সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
খামেনি বলেন, মার্কিন রণতরির চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র ইরানের হাতে রয়েছে যা দিয়ে শত্রুকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই পরিস্থিতিকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, ইরানে কোনো নতুন হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ মানবিক ও পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আরটিভি/এআর





