ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বিশ্লেষণ

দিল্লি বা ইসলামাবাদ নয়, তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন পথে বাংলাদেশ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটানো গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক নির্বাচনি রায় দিয়েছে। জনগণ এমন এক নেতাকে বেছে নিয়েছে, যিনি দেশে রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক পরিসরে কূটনৈতিক পুনঃসমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অস্থির সময় পার করে ভূমিধস বিজয়ের পথে নেতৃত্ব দেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমনপীড়নের পর শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ওই দমনপীড়নে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হন।

বাংলাদেশের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার অনুপস্থিতিতে বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় তাকে। তবে এই রায় একটি নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাকে প্রত্যর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে প্রতিবেশী দুই দেশের নাজুক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।

অনেক বিশ্লেষক এই নির্বাচনের ফলাফলকে দীর্ঘদিনের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের বৈধতা হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি নয়াদিল্লির দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনেরও স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান।

ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পরিধি বিস্তৃত করেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ছিল। আঞ্চলিক কূটনীতিতে তার সরকার ভারতের দিকে ঝুঁকে ছিল, যা তার ১৫ বছরের শাসনামলে নয়াদিল্লিতে সাতবার দ্বিপাক্ষিক সফরকে প্রতিফলিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সমালোচকদের মতে, এই কূটনৈতিক ছন্দ এমন এক পররাষ্ট্রনীতির প্রতীক হয়ে ওঠে, যেখানে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। নিরাপত্তা সহযোগিতা ছিল সবচেয়ে আলোচিত ক্ষেত্র।

বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয় শেখ হাসিনার সরকার। দুই দেশের মধ্যে নজিরবিহীন মাত্রায় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান চালু করে। এতে নয়াদিল্লির সমর্থন মিললেও দেশে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত গণআলোচনা হয়নি। সংযোগ ব্যবস্থায়ও ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়।

বাংলাদেশি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হলেও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি অমীমাংসিত থেকে যায়। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডও বন্ধ হয়নি। জ্বালানিখাতে বাংলাদেশ ক্রমেই ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বড় অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত অনুমোদিত হলেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।

কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে ঢাকা কখনো প্রকাশ্যে ভারতের বিরোধিতা করেনি। সমর্থকদের কাছে এটি ছিল পরিমিত রাষ্ট্রনীতি, কিন্তু বিরোধীদের কাছে এটি ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতা। ক্ষমতাচ্যুতির পর হাসিনার দিল্লিতে আশ্রয় নেয়া সেই ধারণাকে আরও জোরালো করে।

এদিকে বিএনপি ক্ষমতায় ফেরার পর তারেক রহমান তিন দশকের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছেন।

সম্প্রতি এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘নট দিল্লি, নট পিণ্ডি- বাংলাদেশ সবার আগে।’ তবে শেখ হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ১৪ বছর পর করাচিতে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়। ১৩ বছর পর পাকিস্তানি মন্ত্রীরা সফরে আসেন। সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয় এবং বাণিজ্য ২৭ ভাগ বৃদ্ধি পায়।

বিশ্লেষক স্মৃতি পট্টনায়ক (দিল্লিভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস) বিবিসিকে বলেন, হাসিনার আমলে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রায় অনুপস্থিত ছিল। দোলক ভারতের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকেছিল, এখন বিপরীত দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকি আছে।

আরও পড়ুন

ইতোমধ্যে তারেক রহমান দিল্লি ও ইসলামাবাদ উভয় রাজধানী থেকেই শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন। তবে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের অস্বীকৃতি রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে। দেশে এখনো ভারতবিরোধী মনোভাব প্রবল। বহু মানুষের চোখে ভারত বহিরাগত প্রভাবের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠিপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি

তবে জনমতের চিত্র একপাক্ষিক নয়- অনেকে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তারেক রহমানের বড় চ্যালেঞ্জ হবে- স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

এই নির্বাচনি রায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন ভাবনার দরজা খুলেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। অঞ্চলটি আর কোনো এক শক্তির ‘পিছনের উঠান’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। বাংলাদেশ সম্ভবত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তবে একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াবে।

তারেক রহমান ও খামেনিসহ নির্বাসন ফেরত যেসব নেতা বীরের বেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেনতারেক রহমান ও খামেনিসহ নির্বাসন ফেরত যেসব নেতা বীরের বেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেন

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণও এই পরিবর্তনের অংশ হতে পারে। মূল বিষয় নাটকীয় পরিবর্তন নয়, বরং বার্তাটি- বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির দায়িত্ব হবে বিকল্প সম্প্রসারণ, একক নির্ভরতা এড়ানো এবং ঢাকার কণ্ঠস্বরকে আরও দৃঢ় করা।

নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় আরও আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে, পুরোনো সম্পর্কগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে এবং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে পারে যে দেশটিকে আর অবহেলা করা যাবে না।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্ববাজারে কমলো সোনার দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার(২৪ সেপ্টেম্বর) সোনার দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে পারে এমন প্রত্যাশায় সোনার দামে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় মূল্যবান ধাতুটির দরপতন সীমিত ছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮১ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর সরবরাহের সোনার ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। প্রতি আউন্সের দাম ছিল ৪ হাজার ৩১৭ দশমিক ৫০ ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। ফলে ফেডের কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ায় সোনার দামে কিছুটা ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি। সূত্র: রয়টার্স আরটিভি/এসকে
বিশ্ববাজারে কমলো সোনার দাম
আইসক্রিমে পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী, পেলেন ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ 
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইসক্রিমের সঙ্গে পেরেক ও ধাতব টুকরো গিলে গুরুতর অসুস্থ হওয়া এক নারীকে
আইসক্রিমে পেরেক গিলে গুরুতর অসুস্থ নারী, পেলেন ১৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ 
নিউইয়র্কের স্কুলে ডিপ্লোমা ছাড়াই চাকরির সুযোগ
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোতে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে ‘স্কুল এইড’ পদে নিয়োগ চলছে।
নিউইয়র্কের স্কুলে ডিপ্লোমা ছাড়াই চাকরির সুযোগ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, গাজীপুরের কালীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আলমগীর ও মো. ফরহাদ।
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, জানালো যুক্তরাষ্ট্র 
পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয়কে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, জানালো যুক্তরাষ্ট্র 
আরও পড়ুন
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের বৈঠক
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক