ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হওয়ার পর দেশটির শাসনব্যবস্থায় স্থবিরতা কাটাতে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদের আইনজ্ঞ বা জুরিস্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন আলিরেজা আরাফি। এক্সপিডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিলের মুখপাত্র মোহসেন দেহনাভি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছেন।
ইরানের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এই অস্থায়ী কাউন্সিল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের আইন অনুযায়ী এই অস্থায়ী পরিষদে তিন ধরনের সদস্য থাকেন। আলিরেজা আরাফি এখন থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে দেশ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন। এই পরিষদটি মূলত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ইরানের স্থায়ী নেতা নির্বাচনের চূড়ান্ত দায়িত্ব পালন করে দেশটির প্রভাবশালী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর ইরানকে কে নেতৃত্ব দিতে পারেন, তা তিনি ‘সঠিকভাবে জানেন’। তবে কূটনৈতিক গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে তিনি সেই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরানে এমন কেউ আছেন কি না যাকে তিনি দেশটির নেতৃত্বে দেখতে চান? জবাবে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, হ্যাঁ, আমার তাই মনে হয়। সেখানে কিছু ভালো প্রার্থী আছেন। খামেনির স্থলাভিষিক্ত কে হবেন—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, আমি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে জানি না তারা কাকে বেছে নেবে, তবে আমার বিশ্বাস একসময় তারাই আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করবে যে আমি ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চাই।
এর আগে, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।
আরটিভি/এআর




