ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৩২ এএম


ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্রে ভয়াবহ বোমা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, দাম আরও বাড়ার শঙ্কা
ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ১৪তম দিনে এসে ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’-এ এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ইরানের জ্বালানি খাতের প্রাণকেন্দ্র এবং ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপি জ্বালানি তেলের যে অস্তিরতা তা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশ্লেষকরা। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়নি। তবে তার এই দাবি বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার (১৪ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। 

বিজ্ঞাপন

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হিরস আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, খারগ দ্বীপ খুবই ছোট। সেখানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্পের দাবি কল্পনা করা কঠিন। জেপি মরগানের এক নোট অনুযায়ী, ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে।

যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে ইতিমধ্যে আগুন লেগেছে। আল জাজিরার লাইভ আপডেট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ ফেব্রুয়ারির ৭২.৪৮ ডলার থেকে লাফিয়ে বেড়ে বর্তমানে ১০৩.১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহেই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও সংঘাত শুরুর পর থেকে ৪৭ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৯৮.৭১ ডলারে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি এই হামলার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একই সাথে ইরাক ও কুয়েতের উৎপাদন বা রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হয়, তবে তেলের দাম ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

এড হির্সের মতে, তেলের দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়ার দেশগুলো, কারণ তারা অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত জ্বালানির সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। এর ফলে এশিয়ার দেশগুলোর মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার ভোরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প গর্ব করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথে বাধা দেয়, তবে আমি দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”

এদিকে, খারগ দ্বীপে এই ভয়াবহ হামলার পর তেহরানে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দিয়েছিলেন।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission