ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংঘাতের দুই সপ্তাহ পার হয়েছে। শত্রুপক্ষের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এরই মধ্যে ইরানের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে মিত্রদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার সেই আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে জাপান ও ফ্রান্স।
শনিবার (১৪ মার্চ) ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছিলেন, ইরানের অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য এই জোটে যোগ দেবে। কিন্তু ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই দেশ দুটির পক্ষ থেকে আসা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক অবস্থানকে বড় ধরনের ধাক্কার মুখে ফেলেছে। এর ফলে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের যে কৌশল ট্রাম্প গ্রহণ করেছিলেন, তাতে তিনি ক্রমশ একা হয়ে পড়ছেন।
জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতি নির্ধারণী প্রধান তাকায়ুকি কোবায়াশি জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, সাংবিধানিক ও আইনি বাধার কারণে ওই অঞ্চলে নৌবাহিনী পাঠানো টোকিওর জন্য অত্যন্ত কঠিন।
তিনি আরও বলেন, জাপান সামরিক অংশগ্রহণের পরিবর্তে অত্যন্ত রক্ষণশীল ও সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থানেই অনড় থাকবে। মূলত জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সরাসরি কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের অনুমতি দেয় না।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে না। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের বিমানবাহী রণতরী বর্তমানে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কেবল রক্ষণাত্মক ও সুরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এবং বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।
‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর মতে, এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই শস্যগুলোই বিশ্বব্যাপী মানুষের ক্যালোরি গ্রহণের ৪০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে।
এদিকে ট্রাম্প যখন মিত্রদের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছেন, তখন ইরান তার ‘বন্ধুপ্রতীম’ দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত চলাচল বজায় রেখেছে।
তেহরান জানিয়েছে, এই জলপথ কেবল শত্রু দেশ এবং তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ। ইতিমধ্যে ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পর ইরান তাদের জাহাজগুলোকে ছাড় দিয়েছে।
আরটিভি/এআর





