ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশের সরকারি কর্মসংস্থানের সাপ্তাহিক ছুটি ৩ দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক সোমবার (১৬ মার্চ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বলেন, “আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে, তবে আমরা ভালো আশাবাদী।” নতুন নিয়ম স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রযোজ্য হবে। তবে স্বাস্থ্য ও ইমিগ্রেশনসহ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এ থেকে অব্যাহতি পাবে।
চালকদের জন্য ন্যাশনাল ফুয়েল পাসে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার মাধ্যমে জ্বালানি তেলের রেশন নির্ধারণ করা হচ্ছে ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ১৫ লিটার ও মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার। এই ব্যবস্থা ২০২২ সালে দেশীয় অর্থনৈতিক সংকটের সময় চালু হয়েছিল।
এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ডে সরকার এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরতা কমাতে জনগণকে ছোট হাতার টি-শার্ট পরার আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমারে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো লাইসেন্স প্লেট নম্বর অনুযায়ী একদিন পরপর চলাচল করতে পারবে। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রমজানের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে এবং লোডশেডিং প্রবর্তন করা হয়েছে। ফিলিপাইনে সরকারি কর্মকর্তাদের সপ্তাহে অন্তত একদিন বাসা থেকে কাজ করা বাধ্যতামূলক হয়েছে। ভিয়েতনামে নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহন ব্যবহার, বাইসাইকেল চালানো ও কারপুল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তেলের বাজারে বর্তমান দামের ধারা উদ্বেগজনক; গত মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি ব্যারেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এশিয়ায় তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় দেশগুলো এখন মিতব্যয়ী ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে।
আরটিভি/এসকে




