ঈদুল ফিতরেও বন্ধ থাকবে আল আকসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৩:১৩ পিএম


ঈদুল ফিতরেও বন্ধ থাকবে আল আকসা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতেও আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদটির প্রশাসনিক বিষয়াবলির সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্র ‘মিডল ইস্ট আই’ (এমইই)-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রগুলো জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি আল-আকসা তদারকির দায়িত্বে থাকা ইসলামী ওয়াকফ কমিটিকে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ অজুহাত দেখিয়ে চলতি মাসের শুরুতেই আল-আকসা বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। রমজানের মতো পবিত্র মাসে এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিরা নিরাপত্তার ছুতায় আল-আকসার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম রমজান মাসে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসায় জুমার নামাজ আদায় করতে পারলেন না।

মসজিদ বন্ধ হওয়ার পর থেকে বিশাল এই চত্বরে প্রতি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ওয়াকফ সূত্র জানায়, পান্ডুলিপি বিভাগের একজন অতিরিক্ত কর্মীকে প্রবেশের অনুমতি চাইলেও তা নাকচ করে দেয় ইসরায়েলি পুলিশ। উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, বাড়তি কোনো কর্মী ঢুকলে কট্টরপন্থী ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের আবারও মসজিদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসার প্রধান নামাজের হলগুলো এবং কুব্বাতুস সাখরার (ডোম অব দ্য রক) ভেতরেও গোপন ক্যামেরা স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

আল-আকসা বন্ধের পাশাপাশি জেরুজালেমের পুরনো শহরও কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। যুদ্ধের দোহাই দিয়ে কেবল সেখানকার বাসিন্দাদের ভেতরে থাকতে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে এক সময়ের প্রাণবন্ত এই এলাকাটি এখন জনশূন্য মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। অথচ পুরনো শহরের দেয়ালের মাত্র কয়েক মিটার বাইরে জনজীবন একদম স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার ছিল পবিত্র লাইলাতুল কদর। ওই রাতে শত শত পুলিশ মোতায়েন করে আল-আকসার সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে হাজার হাজার মুসল্লি রাজপথে নামাজ পড়তে বাধ্য হন। আল-আকসা মসজিদের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবু সোয়ে বলেন, পুরনো শহরের ভেতরে আর বাইরের পরিস্থিতির এই বৈপরীত্য বিস্ময়কর। যদি নিরাপত্তারই প্রশ্ন হতো, তবে আল-আকসার বিশাল ভূগর্ভস্থ হলগুলোতে হাজার হাজার মানুষ অনায়াসেই আশ্রয় নিতে পারতেন।

ওয়াকফ কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক আউনি বাযবায জানান, সাময়িক অজুহাতে চাপিয়ে দেওয়া এই বিধিনিষেধগুলো স্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি দখলদার শক্তি অধিকৃত অঞ্চলে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে না, কিন্তু ইসরায়েল বছরের পর বছর ধরে আল-আকসার ঐতিহাসিক ‘স্ট্যাটাস কু’ বা স্থিতাবস্থা লঙ্ঘন করে চলেছে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission