যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, প্রত্যাখ্যান করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৭:২০ পিএম


যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের, প্রত্যাখ্যান করল ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাঠানো উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগে পরাজয় মেনে নিয়ে নতি স্বীকার করতে হবে—তবেই শান্তি নিয়ে আলোচনা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানায়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈদেশিক নীতি বিষয়ক বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে আগে পরাজয় স্বীকার করতে হবে এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে—তবেই আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে। 

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

জানা গেছে, অন্তত দুটি দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছিল। এক সপ্তাহেরও বেশি আগে ধর্মীয় পরিষদের মাধ্যমে বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়া মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে এখনো রহস্য রয়ে গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো নতুন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।

কিছু ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিনি সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন মোজতবা খামেনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এই ধোঁয়াশার মধ্যেই তার এই আপসহীন বার্তা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।। 

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

এর জেরে পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ সামরিক অভিযানে প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও।

এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৮ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন ইরানে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission