কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড গত সোমবার পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে দেশটির প্রায় এক কোটি মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। মার্কিন নেতৃত্বাধীন তেল অবরোধের কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটির জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্স ও সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বিকল হয়নি। তবে সঞ্চালন ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে পুরো গ্রিড ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোট ছোট সার্কিট বা মাইক্রোসিস্টেম চালু করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর ফলে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তারের পর দেশটি থেকে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবায় তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করেছেন এবং অন্য দেশগুলোকে তেল বিক্রি করলে শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন। এতে দেশটির পুরনো ও দুর্বল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সংকট নিরসনে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে বলে গত শুক্রবার জানানো হয়। ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, কিউবা ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী।
দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার মানুষ বিদ্যুৎ সংকটে অভ্যস্ত। তেলের ঘাটতি ও পুরনো অবকাঠামোর কারণে নিয়মিত লোডশেডিং ও গ্রিড বিপর্যয় ঘটছে। রাজধানী হাভানার বাসিন্দা দিয়ানা মাচিন বলেন, এই খবর আমাকে অবাক করেনি। এখন সবাই বিকল্প উপায়ে চলার চেষ্টা করছে। আমরা এমন জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে কিউবায় মাত্র দুটি ছোট জাহাজে তেল এসেছে। এর মধ্যে একটি মেক্সিকো থেকে এবং অন্যটি জামাইকা থেকে রান্নার গ্যাস নিয়ে এসেছে।
এক সময় কিউবার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ভেনেজুয়েলা এ বছর এখনো কোনো তেল পাঠায়নি। এছাড়া দেশটির প্রধান বন্দরগুলোতেও বড় কোনো জ্বালানি আমদানির কার্যক্রম দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতি কিউবার দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট আরও তীব্র করে তুলেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
আরটিভি/এমএ




