মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের তিন সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার দিনে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’।
শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করতে দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের অন্তত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে এই পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মার্চের শেষে তার চীন সফরের আগেই এই যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে না পারায় তিনি এখন যুদ্ধের সময়সীমা দীর্ঘায়িত করতে এবং সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হচ্ছেন। উল্লেখ্য, ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই ক্ষুদ্র কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপটির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়।
হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, সরাসরি দ্বীপটি দখল করার আগে অন্তত এক মাস ধরে সেখানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেওয়া হবে। গত শুক্রবারও মার্কিন বিমানবাহিনী খারগ দ্বীপের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত দেখতে চান। যদি এর জন্য উপকূলীয় আগ্রাসন বা দ্বীপ দখল করতে হয়, তবে তা-ই করা হবে।”
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৫০০ সদস্যের একটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ ওই অঞ্চলের পথে রয়েছে। এছাড়া সমপরিমাণ সদস্যের আরও দুটি নৌ-ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও ট্রাম্প সরাসরি সেনা পাঠানোর কথা স্বীকার করেননি, তবে তিনি রহস্য রেখে বলেছেন, “আমরা যেকোনো সময় ওই দ্বীপটি দখল করতে পারি। আমি ওটিকে একটি ছোট ও অরক্ষিত দ্বীপ বলি।”
খারগ দ্বীপ দখলের এই পরিকল্পনা মার্কিন সামরিক মহলে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের মিশন মার্কিন সৈন্যদের অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানির ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি মনে করেন, দ্বীপটি দখল করলেও ইরান অন্য প্রান্ত থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। তার মতে, স্থল অভিযানের বদলে আরও দুই সপ্তাহ বিমান হামলা চালিয়ে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের পাহাড়ায় তেলবাহী ট্যাংকার পার করে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান টম কটন ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানকে ‘বিচক্ষণতা’ বলে অভিহিত করলেও খোদ পেন্টাগনের অনেক কর্মকর্তা এই অভিযানের সফলতা নিয়ে সন্দিহান। তাদের মতে, ইরান উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরের এই দ্বীপে সরাসরি মার্কিন উপস্থিতি তেহরানকে এক ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণের সুযোগ করে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
আরটিভি/এআর




