মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে বড় ধরনের বিমানবাহী রণতরী সংকটে পড়তে পারে। নৌবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক ফোর্ড-শ্রেণির রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বর্তমানে গ্রিসের ক্রীট দ্বীপের সৌদা বে-তে মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। ১২ মার্চ জাহাজটির লন্ড্রি রুমে অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর এটি হয়তো ১২ থেকে ১৪ মাসের জন্য সার্ভিসে আসবে না।
রণতরীটি টানা নয় মাস সাগরে ছিল, লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ৭ হাজারেরও বেশি হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে আগুনে প্রায় ১০০টি থাকার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ইম্যালস ও এএজি-এর মতো অত্যাধুনিক সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণকে আরও বিলম্বিত করেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, জাহাজের দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয়তা মার্কিন নৌবাহিনীর গ্লোবাল উপস্থিতি এবং কৌশলগত সক্ষমতায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ফোর্ড শ্রেণির প্রথম রণতরী হওয়ায় এর যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয়তা পুরো শ্রেণির ওপর আস্থার সংকট সৃষ্টি করতে পারে। রণতরীটি প্রায় ১ লাখ টন ওজনের, ৭৫টির বেশি বিমান এবং ৫ হাজারেরও বেশি নাবিক বহন করতে সক্ষম।
জাহাজের আগুন নেভাতে কয়েক ঘণ্টা লেগেছে, ধোঁয়ার কারণে ২০০ নাবিককে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। নৌবাহিনী জানিয়েছে, প্রোপালশন বা চালিকাশক্তি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে আগুনের পাশাপাশি দীর্ঘ মিশনের কারণে জমে থাকা রক্ষণাবেক্ষণ কাজও মেরামতের সময় বাড়াচ্ছে।
ফোর্ডের মেরামত এবং পুনঃনিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি লোহিত সাগরের সক্রিয় অভিযানে অংশ নিতে পারবে না। এই দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ক্রিয়তা মার্কিন নৌবাহিনীর সবচেয়ে নতুন এবং অত্যাধুনিক রণতরীটিকে অস্থির পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
আরটিভি/এসকে



