যুদ্ধের মধ্যেও প্রতিদিন ১৪ কোটি ডলার আয় করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ , ০২:০৩ পিএম


যুদ্ধের মধ্যেও তেল বেচে প্রতিদিন ১৪ কোটি ডলার আয় করছে ইরান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ২৮তম দিনে গড়িয়েছে। তবে তীব্র সংঘাত চললেও ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জনের চাকা শুধু সচল নয়, বরং আরও বেগবান হয়েছে। কেননা দেশটি যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ (১৩৯ মিলিয়ন) ডলার আয় করছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ গোয়েন্দা তথ্য ও জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপুল অর্থের প্রায় পুরোটাই আসছে তেল রপ্তানি থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে অবরোধ জারি করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুটটি ব্যবহার করে। বর্তমানে এই রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় তারা সংকটের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে।

বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালিকে বলা হয় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’। অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ‘ইরানিয়ান লাইট’ এই রুট দিয়ে অবাধে বহির্বিশ্বে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন

বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মজার বিষয় হলো, যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল উত্তোলন মোটেও বাধাগ্রস্ত হয়নি। বরং তেলের জোগান অনিয়মিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করে ইরান ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করত, বর্তমানে একই পরিমাণ তেল বিক্রি করে তাদের আয় হচ্ছে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

তেল বিক্রির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল বা মাশুল আদায় করেও বড় অংকের মুনাফা লুটছে তেহরান। গত কিছুদিন ধরে এই রুট দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ ডলার টোল আদায় করছে দেশটি। 

আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ‘গ্লোবাল এনার্জি পলিসি’র জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল খাত দখল বা ধ্বংস করা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত ইরানের সামনে মুনাফার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে।”

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission