ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় আরও ৮২ জন অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগরের তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে ৪৭১ জন কথিত বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় প্রশাসন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বিথারী গ্রামের হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় অবস্থানরত এসব ব্যক্তি নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, এখনও নতুন করে সীমান্তে এসে হাজির হচ্ছেন অনেকে।
ভারতীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে থাকা কথিত বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। বর্তমানে হাকিমপুর সীমান্তসংলগ্ন তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে সবচেয়ে বেশি মানুষ অবস্থান করছেন। অন্যদিকে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও দিনাজপুরের হোল্ডিং সেন্টারগুলো ইতোমধ্যে খালি হয়ে গেছে।
রাজ্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী প্রতিটি থানায় একটি করে হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩টি হোল্ডিং সেন্টার চালু করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।
এদিকে শিলিগুড়িতে আটক ৮ জন এখনও হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অবৈধভাবে প্রবেশ ও ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক আরও পাঁচজন কথিত বাংলাদেশি নাগরিকও হোল্ডিং সেন্টারে অবস্থান করছেন।
প্রশাসনের দাবি, সীমান্তে অবস্থানকারীদের অনেকেই স্বীকার করেছেন যে তারা অতীতে বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে দালালের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেছেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে অবস্থানরতদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছে বিএসএফ এর বিশেষ ডেস্ক।
বিএসএফ জানিয়েছে, পরিচয় ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না। হোল্ডিং সেন্টারে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ফেরত পাঠানোর আগে কোনো ধরনের মানবিক সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আরটিভি/এসকে



