যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের নোটে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক ঘোষণায় জানিয়েছে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর সম্বলিত ডলারের নোট শীঘ্রই বাজারে ছাড়া হবে।
আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাধারণত মার্কিন ডলারের বিভিন্ন মূল্যমানের নোটে কেবল ট্রেজারি সচিব ও ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকে। তবে আড়াইশ বছরের সেই দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে এবার সেখানে প্রেসিডেন্টের নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব স্থিতিশীলতার পথে এগিয়েছে। মূলত তার এই ‘ঐতিহাসিক সাফল্যকে’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতেই মুদ্রায় স্বাক্ষর যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে সরকারি অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আমলের প্রবৃদ্ধি মূলত আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতাতেই রয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.২ শতাংশ, যা ২০২২ থেকে ২০২৪ সময়ের গড় প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশের চেয়ে কিছুটা কম। ফলে এই পদক্ষেপকে ‘সাফল্যের স্বীকৃতি’র চেয়ে বেশি ‘ব্যক্তিগত প্রচার’ হিসেবে দেখছেন অনেক অর্থনীতিবিদ।
এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তিনি উপহাস করে বলেন, “এখন থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে মার্কিনরা অন্তত পকেটের ডলারের দিকে তাকিয়ে সহজেই বুঝতে পারবেন কাকে দায়ী করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তখন জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি বহনকারী একটি বিশেষ স্মারক সোনার মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। সমালোচকরা এই ধরনের পদক্ষেপকে আধুনিক গণতন্ত্রের বদলে স্বৈরশাসক বা রাজতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে তুলনা করছেন।
ব্যবসায়ী জীবনে নিজের ব্র্যান্ডকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করা ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পে নিজের নাম যুক্ত করার নেশায় মেতেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যেই ‘জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ এবং ‘ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজের নাম জড়িয়েছেন তিনি।
আরটিভি/এআর



