ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানের গুঞ্জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরানের মাটিতে প্রবেশ করে, তবে তারা জীবিত নয়, ‘কফিনে’ করেই দেশে ফিরবে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সম্ভাব্য ইরানবিরোধী স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে, তবু সেনা বাড়ানোর উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আরও বেশি সামরিক বিকল্প দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব সেনাকে ইরানের মূল ভূখণ্ড এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করানো হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে তেহরানের এক কর্মকর্তা বুধবার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান শুরু করে, তবে ইরান তাদের ইয়েমেনি মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের আরও সক্রিয় করবে। এর ফলে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল আবারও বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং যুদ্ধের নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থলযুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আলোচনা খুবই ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার তারা তেহরানের কেন্দ্রীয় অংশে ‘ইরানি সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। একই দিনে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা নতুন করে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আরটিভি/এসকে



