ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এখানে এক নারী তার স্বামীকে হত্যা করে তার মৃতদেহের পাশে সন্তানদের নিয়ে পুরো রাত কাটানোর অভিযোগে পুলিশ তাকে এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত মেহরাজ পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং তিনি পিপলাউটি কালা গ্রামের বাসিন্দা। মেহরাজের স্ত্রী রুহি তার বোনের শ্বশুরবাড়ির সদস্য ফারমানের সঙ্গে পরকীয়া শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মেহরাজ এতে আপত্তি জানালে রুহি তার স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানায়, রুহি প্রথমে মেহরাজের খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। এরপর রাতে তার প্রেমিক ফারমান ও তার বন্ধু আদনানকে বাড়িতে ডাকেন। তিনজন মিলে মেহরাজকে বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর রুহি সেই একই ঘরে স্বামীর মৃতদেহের পাশে সন্তানদের নিয়ে রাত কাটান।
পরদিন সকালে মেহরাজের বাবা বাড়িতে এসে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। রুহি তখন ডাকাতির কথা বললেও তার আচরণে সন্দেহ থাকায় পুলিশকে খবর দেন নিহতের বাবা। জিজ্ঞাসাবাদে রুহি ও তার সহযোগীদের পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা স্বীকার করে।
পুলিশ রুহি, ফারমান ও আদনানকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ছুরি ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।
ঘটনাটি পারিবারিক সম্পর্কের অবক্ষয় ও পরকীয়াজনিত সহিংসতার ভয়াবহ পরিণতির দিকে সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এমন নির্মমভাবে প্রকট হলে তা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আরটিভি/এসকে



