চলমান ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ও মাটিতে চরম স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সামরিক বাহিনী এক চরম সংঘাতময় সমীকরণে জড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যকে একে অপরের আগে খুঁজে পেতে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন এক মরণপণ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও পেন্টাগনের অসমর্থিত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটিতে সাধারণত দুজন ক্রু (পাইলট এবং অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তা) থাকেন। এর মধ্যে একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্য এখনো প্রতিকূল পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ক্রুকে ইরানি বাহিনীর হাতে পড়া থেকে বাঁচাতে পেন্টাগন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের খুজেস্তান এবং পাহাড়ি কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের ওপর দিয়ে অত্যন্ত নিচ দিয়ে মার্কিন সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান এবং দুটি ব্ল্যাক হক ও পেভ হক হেলিকপ্টারকে চক্কর দিতে দেখা গেছে।
সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, শত্রুর সীমানার এত গভীরে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিচ দিয়ে হেলিকপ্টার উড়ানোর অর্থ হলো— ওয়াশিংটন তার সেনাকে উদ্ধারে যেকোনো চরম ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এই উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলোকেও ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, গুলিতে কয়েকজন মার্কিন উদ্ধারকারী আহতও হয়েছেন।
অন্যদিকে, তেহরান এই নিখোঁজ মার্কিন পাইলট বা ক্রুকে যেকোনো মূল্যে জীবিত বা মৃত নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া। মার্কিন সেনাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে দেখাতে পারলে তা হবে ওয়াশিংটনের জন্য এক চরম মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও গণমাধ্যমগুলো দেশটির সাধারণ নাগরিকদের এই ‘শিকার’ অভিযানে শামিল হওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টিভির এক উপস্থাপক সরাসরি সম্প্রচারে ঘোষণা করেছেন: “যদি আপনারা শত্রু বিমানবাহিনীর পাইলটকে জীবিত ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারেন, তবে আপনাদের মূল্যবান সরকারি পুরস্কার দেওয়া হবে।” এছাড়া দেশটির এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ওই মার্কিন ক্রুকে জীবিত ধরতে পারলে ৬০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে এই প্রথম মার্কিন বিমানবাহিনীর কোনো মানববাহী যুদ্ধবিমান ইরানের মূল ভূখণ্ডে ভূপাতিত বা বিধ্বস্ত হলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল , তারা ইরানের ওপর শতভাগ আকাশ আধিপত্য বিস্তার করেছে। কিন্তু এফ-১৫ই বিমানের পতন সেই দাবিকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
আরটিভি/এআর



