বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশ ইরাকের সব ধরনের বাণিজ্যিক ও মালবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপসাগরীয় এই প্রতিবেশী দেশের পতাকাবাহী যেকোনো জাহাজ এখন থেকে এই প্রণালী দিয়ে অবাধে এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারবে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইরানের খাতাম আল আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে উপসাগরীয় দেশ ইরাক সব ধরনের সামরিক বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ থেকে বিশেষ অব্যাহতি পাবে। তবে তারা এটাও কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছে, এই জলপথে কড়াকড়ি বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ কেবল আমেরিকা ও ইসরায়েলের মতো ‘শত্রু দেশগুলোর’ ওপরই পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে।
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আধুনিক জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুসারে, তেহরানের চাপিয়ে দেওয়া কার্যত অদৃশ্য টোল বুথ ব্যবস্থার অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে সামুদ্রিক যান চলাচল কিছুটা বেড়েছে। তবে তা এখনো যুদ্ধপূর্ববর্তী স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ৯০ শতাংশেরও অনেক কম রয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে সব মিলিয়ে মাত্র ৫৩টি জাহাজ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে। সংখ্যাটি খুবই নগণ্য মনে হলেও মূলত যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ জাহাজ চলাচলের রেকর্ড। এর ঠিক আগের সপ্তাহে এই সংখ্যাটি ছিল মাত্র ৩৬।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই তেহরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে রেখেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ রুটটি দিয়েই সাধারণত সমগ্র বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক পঞ্চমাংশ নিয়মিত সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
আরটিভি/এআর




