মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। কেননা গত ২ মার্চের পর লেবাননে গতকাল সবচেয়ে বড় ও বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী।
মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় কয়েক শ মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন আগ্রাসনের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট ছুড়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, লেবানন সীমান্ত-সংলগ্ন শতুলা এবং পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলের শহরগুলোতে অবিরাম বিমান হামলার সাইরেন বাজছে।
ইসরায়েলের এই পরিকল্পিত ও ব্যাপক বিমান হামলার আগে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এসময় শান্তি বজায় রাখতে ইসরায়েলে সব ধরনের হামলা স্থগিত রাখা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে হিজবুল্লাহর এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েল একের পর এক হামলা চালিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে লেবানন ফ্রন্টও বর্তমান যুদ্ধবিরতির আওতায় রয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, লেবানন সীমান্তকে কোনোভাবেই এই সাময়িক চুক্তির অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অবস্থান এখন আরও কঠোর। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির এক হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, হিজবুল্লাহর ওপর হামলা কোনো ধরনের আপস ছাড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি মনে করেন হিজবুল্লাহর শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত উত্তর ইসরায়েলে শান্তি ফিরবে না।
আরটিভি/এআর



