যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিলুফার ইয়াসমিন (৪২) হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও প্রকাশ করে তিনি এ ঘটনাকে অভিবাসন নীতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
গত ২ এপ্রিল ফ্লোরিডায় নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ইয়াসমিনকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রোলবার্ট জোয়াচিনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে একটি পোস্টে হামলার সিসিটিভি ভিডিও শেয়ার করেন। তিনি ওই ভিডিওকে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দৃশ্যগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন এবং হত্যাকারীকে পশু হিসেবে আখ্যা দেন।
একই পোস্টে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তার দাবি, বাইডেন প্রশাসনের নীতির কারণে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অপরাধী ও মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। তিনি হাইতিয়ান নাগরিকদের জন্য চালু থাকা অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির ও সমালোচনা করেন এবং তা বাতিলের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান নাগরিক এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এ কর্মসূচি বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ চলতি বছরের শুরুতে এক ফেডারেল বিচারক স্থগিত করেন।
অন্যদিকে, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, জোয়াচিন ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং একই বছর তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি হয়। পরে তিনি অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকার অনুমতি পান, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত ইয়াসমিনের স্মরণে ঘটনাস্থল সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশনের বাইরে অস্থায়ী স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে



