দেশের সংকটের সময়ে শত্রু রাষ্ট্র ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আরও চার ‘গাদ্দারকে’ গ্রেপ্তার করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য জানায়।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনার গোপনীয় তথ্য ও ছবি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাচার করছিল।
সংস্থা ইরনা জানায়, এই চার ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে ছদ্মবেশে দেশের অভ্যন্তরে মোসাদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছিল। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে মোসাদ কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল।
কেবল গিলান প্রদেশেই নয়, ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় আরও একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান চালিয়ে মোট ৩৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গিলানের এই ৪ জন সরাসরি সামরিক তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাকি ৩৫ জনকে দেশের ছয়টি ভিন্ন প্রদেশ থেকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে অস্ত্র পাচারকারী ও বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরাও রয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, মোসাদের এই বিশাল নেটওয়ার্কটি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেতর থেকে নড়বড়ে করে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই ‘গাদ্দাররা’ অর্থের বিনিময়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার চেষ্টা করছিল।
একদিকে যখন অভ্যন্তরীণভাবে গুপ্তচরদের ধরপাকড় চলছে, অন্যদিকে তখন বহির্বিশ্বের চাপকেও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে তেহরান। মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানকে এভাবে বন্দি বা অবরুদ্ধ করা সম্ভব নয়। আপনারা কূটনৈতিক পথে ব্যর্থ হয়ে সামরিক বা অর্থনৈতিক কোনো পথেই সফল হতে পারবেন না।
আরটিভি/এআর



