টানা ৩৮ দিনের উত্তপ্ত সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল তার মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। বিবাদমান দুই পক্ষ স্থায়ী শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে আলোচনার টেবিলে বসলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। সাময়িক এই যুদ্ধবিরতির সময় ফুরিয়ে আসার আগে ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তান ও মিসরের মতো দেশগুলো জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
তবে দুই দেশের আলোচনা এগোলেও মূল ইস্যুগুলোতে এখনো বড় ধরনের বাধা রয়ে গেছে। কিছু ছোটখাটো বিষয়ে সমঝোতা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ফলে খুব দ্রুত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে তারা অগ্রসর হয়েছেন ঠিকই কিন্তু অন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখনো বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে। তাই চূড়ান্ত কোনো চুক্তির কাছাকাছি এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইরান এই আলোচনায় ধাপে ধাপে এবং পারস্পরিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এগোতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায় এমনটা হওয়া কখনোই সম্ভব নয় যে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব আর অপর পক্ষ কোনো পদক্ষেপই নেবে না।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের মতবিরোধ এখনো কাটেনি। তবে গালিবাফ জানিয়েছেন এসব জটিলতা সত্ত্বেও তেহরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথেই এগোতে আগ্রহী। টেকসই শান্তি স্থাপনের জন্য তাদের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
একই সঙ্গে স্পিকার গালিবাফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান তাদের মূল উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরান সরকারের পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং তাদের আক্রমণাত্মক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও ধ্বংস করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ইরান কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলা নয় বলে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন।
হুঁশিয়ারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পাঠাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
গালিবাফের দাবি, সাময়িক যুদ্ধবিরতি ইরান মেনে নিয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দাবিগুলো বিবেচনা করার সুযোগ পায়। তিনি মনে করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা মেনে নিয়েছেন কারণ মাঠের লড়াইয়ে ইরান বিজয়ী অবস্থানে ছিল।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য জোর চেষ্টা চলছে। গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল তার পর থেকেই সংঘাত আপাতত স্থগিত রয়েছে। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় আলোচনার ফলাফল কী হবে তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরটিভি/এআর




