২০২১ সালে মাঝআকাশে দুইটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়ায় সেই সংঘর্ষে কোনো প্রাণহানি না হলেও যুদ্ধবিমান দুটি মেরামতে দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৬ লাখ ডলার ব্যয় করতে হয়।
তবে তদন্তকারীরা পাঁচ বছর পর অবশেষে সেই সংঘর্ষের কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তারা বলছেন, উড়ন্ত অবস্থায় পাইলটেরা নিজেদের ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। খবর আল জাজিরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছ, সিউলের বোর্ড অব অডিট অ্যান্ড ইনস্পেকশনের তথ্য অনুযায়ী—ঘটনাটি ঘটে মধ্যাঞ্চলের শহর দেগুতে। সে সময় যুদ্ধবিমানগুলো একটি ফ্লাইট মিশনে ছিল।
এরপর, বিমান দুটির মেরামতে সামরিক বাহিনীর খরচ পড়ে ৮৮০ মিলিয়ন ওন বা ৫ লাখ ৯৬ হাজার ডলার।
যে পাইলট ছবি তোলার জন্য বিমান উল্টে উড়িয়েছিলেন, তিনি পরবর্তীতে সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেন। তাকে ৮.৮ কোটি ওয়ান জরিমানা দিতে হয়েছে।
নিরীক্ষা বোর্ডের বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট তার ইউনিটের সঙ্গে শেষ উড্ডয়নকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উড্ডয়নের আগে ব্রিফিংয়েও তিনি এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি উইংম্যান বিমান চালাচ্ছিলেন। ফেরার সময় নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তোলা শুরু করেন। লিড পাইলট এটি দেখে তার বিমানে থাকা অন্য পাইলটকে উইংম্যান বিমানের ভিডিও ধারণ করতে বলেন।
ভালোভাবে ছবি ও ভিডিও তোলার জন্য উইংম্যান পাইলট হঠাৎ বিমানটি ওপরে তুলে উল্টে দেন। এই ম্যানুভারের ফলে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।
পরবর্তীতে সংঘর্ষ এড়াতে লিড বিমান দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুটি এফ-১৫কে বিমানের সংঘর্ষ হয়। লিড বিমানের বাম ডানা এবং উইংম্যান বিমানের লেজের স্টেবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনীতে পেশাদারিত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠে এসেছে।
আরটিভি/এমআই




