যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। নিখোঁজ হওয়ার সাত দিন পর লিমনের মরদেহ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশ অভিযুক্ত হিশামকে গ্রেপ্তার করে। আর এই গ্রেফতারের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট টিমের অভিযানের মাধ্যমে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন পুলিশ ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। নিখোঁজ লিমনের মরদেহ পাওয়ার পরপরই তদন্তকারীরা লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেহর দিকে নজর দেন। পুলিশি তদন্তে হিশামের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরপরই তাকে হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে ঠিক সেই সময়ই পুলিশের কাছে একটি পারিবারিক সহিংসতার কল আসে। ঘটনাটি ঘটে হিশামের বাসভবনের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায়। কল পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে হিশামের বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে। কিন্তু অভিযুক্ত হিশাম পুলিশের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভেতরেই অবস্থান করতে থাকেন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়লে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় দ্রুত বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিমকে তলব করে। পুলিশ বাহিনী পুরো বাড়িটি ঘিরে রাখে এবং হিশাম যাতে কোনোভাবেই পালাতে না পারে তা নিশ্চিত করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার মধ্যে সোয়াট টিম অত্যন্ত কৌশলী অবস্থানে যায়। তারা হিশামকে আত্মসমর্পণ করতে বারবার আহ্বান জানায়।
এক পর্যায়ে সোয়াট টিমের অভিযানের মুখে এবং পরিস্থিতির চাপে পড়ে হিশাম আবুঘরবেহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। সোয়াট টিমের সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থানায় নিয়ে যান। পরে তাকে লিমনের হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ নষ্ট করা এবং অনুমোদনহীনভাবে মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
জামিল আহমেদ লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একজন মেধাবী পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং দীর্ঘ ৭ দিন পর তার করুণ পরিণতি সবার সামনে আসে। রুমমেট হিশামের সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন বা অন্য কোনো বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর



