পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যুবক, সামনে এলো অবিশ্বাস্য ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ , ০৬:২২ পিএম


পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যুবক, সামনে এলো অবিশ্বাস্য ঘটনা
ছবি: সংগৃহীত

চীনের এক ব্যক্তির পেটব্যথার চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকদের সামনে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা— শৈশবে গিলে ফেলা একটি থার্মোমিটার দুই দশক ধরে তার শরীরেই রয়ে গিয়েছিল।

৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দক্ষিণ-পূর্ব চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনঝৌ শহরের বাসিন্দা। সম্প্রতি পেটের তীব্র ব্যথা নিয়ে তিনি ওয়েনঝৌ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংযুক্ত হাসপাতালের লংগ্যাং শাখায় ভর্তি হন। সেখানেই পরীক্ষায় তার ক্ষুদ্রান্ত্রের একটি অংশে অস্বাভাবিক বস্তু ধরা পড়ে।

চিকিৎসকদের সন্দেহ ছিল, বস্তুটি একটি পারদযুক্ত থার্মোমিটার। পরে তা নিশ্চিত হয়।

জানা গেছে, থার্মোমিটারটির অগ্রভাগ অন্ত্রের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি করছিল, যা থেকে যেকোনো সময় ছিদ্র হয়ে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল।

রোগী চিকিৎসকদের জানান, ১২ বছর বয়সে তিনি ভুলবশত থার্মোমিটারটি গিলে ফেলেছিলেন। ভয়ে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানাননি। এরপর কোনো উপসর্গ না থাকায় ঘটনাটি সময়ের সঙ্গে ভুলে যান।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ২০ মিনিটের সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে থার্মোমিটারটি সফলভাবে বের করে আনা হয়। দীর্ঘদিন শরীরে থাকার কারণে এটি পিত্তনালীর কাছাকাছি অবস্থান করছিল, যা অপারেশনকে আরও জটিল করে তোলে।

উদ্ধারের পর দেখা যায়, থার্মোমিটারটি অক্ষত থাকলেও এর তাপমাত্রা নির্দেশক দাগগুলো প্রায় মুছে গেছে।

আরও পড়ুন

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, কোনো অস্বাভাবিক বস্তু গিলে ফেললে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কারণ দীর্ঘ সময় শরীরে থেকে গেলে তা প্রাণঘাতী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে প্রতি বছর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ভুলবশত বিভিন্ন বস্তু গিলে ফেলার কারণে চিকিৎসা নেন, যার মধ্যে শিশুদের হারই সবচেয়ে বেশি।

এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, থার্মোমিটারটি ভেঙে না যাওয়ায় ওই ব্যক্তি বড় ধরনের বিপদ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission