ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধই ছিল। তবে কঠিন নজরদারির মধ্যেই প্রথমবারের মতো আজ একটি পূর্ণ এলএনজি ট্যাংকার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি অতিক্রম করার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ সময় ওই জাহাজটির সিগন্যাল বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে।
তবে ভিন্ন কথা বলছে জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিক। তাদের মতে ৬টি জাহাজ প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ পুরোপুরি প্রণালিটি অতিক্রম করতে পারেনি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্যাপলার জানিয়েছে, ‘মুবারাজ’ নামের ট্যাংকারটি ঠিক কবে প্রণালিটি পার হয়েছে, তা স্পষ্ট করে না বললেও সংস্থাটির মতে, ট্যাংকাররটি তার সিগন্যাল বন্ধ রেখে গোপনে এই প্রণালি পারাপার করেছে। পরে ভারতের দক্ষিণ উপকূলের কাছে পুনরায় সিগন্যাল চালু করে।
ক্যাপলারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চার্লস কস্টেরুস জানান, চলতি মাসের ১৮-১৯ তারিখের মধ্যে যখন একাধিক জাহাজ (সাতটি এলএনজি ট্যাঙ্কারসহ) প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল, তখনই হয়তো এই ট্যাংকারটি পার হয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো সঠিক নিশ্চিয়তা দিতে পারেননি।
জাহাজটি প্রায় দুই মাস আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস আইল্যান্ড থেকে এলএনজি বোঝাই করে। সেই সঙ্গে এটি এশীয় দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে কোনো দেশ বা এর নির্দিষ্ট গন্তব্য এখনও জানা যায়নি। তবে যদিও সামগ্রিকভাবে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনো সীমিত রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৬টি জাহাজ প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।
এর মধ্যে ছিল- সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের নাভা শেভা বন্দরগামী একটি কনটেইনার জাহাজ, সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর ও আমিরাতের হামরিয়া ফ্রি জোন থেকে আসা দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং একটি ইরানি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ।
তবে এখনও কোনো জাহাজ পুরোপুরি প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি বলে জানায় সংস্থাটি। এছাড়া, অনেক জাহাজ তাদের অবস্থান গোপন রাখতে এআইএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে রাখতে পারে। ফলে প্রকৃতপক্ষে আরও কিছু জাহাজ নজর এড়িয়ে চলাচল করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেওয়ায় প্রণালিটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরটিভি/এমএ



