বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নদী ও জলাধার এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত এমন একটি দাবি সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রচলিত প্রতিবেদন ও আলোচনায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের যেসব অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ কঠিন, বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি এলাকায়, সেখানে ‘প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে সরীসৃপ ব্যবহার করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দাবি অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সংশ্লিষ্ট কিছু অঞ্চলে এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ, যার বড় অংশ নদী, খাল, পাহাড় ও দুর্গম ভূখণ্ডে বিস্তৃত। এসব এলাকায় নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ অসম্ভব বা অত্যন্ত জটিল।
তবে প্রস্তাবিত এই ধরনের উদ্যোগ ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশবিদদের মতে, কুমির বা বিষধর সাপকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে এ ধরনের প্রাণী ছেড়ে দিলে তারা টিকে থাকতে না পারার পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে বন্যা ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় বিষধর সাপ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রাণী ব্যবহার করার কোনো বাস্তব বা আধুনিক উদাহরণ নেই বলেও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে অধিকতর যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, সীমান্ত নিরাপত্তা ঘিরে এই ধরনের আলোচিত দাবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও তৈরি হয়েছে অনলাইনে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরটিভি/এসকে



