পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সময়ের ব্যবধানে সেই সম্পর্ক ভেঙে গিয়ে তিনি এখন তার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত হয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারী নন্দিগ্রাম আন্দোলনের মাধ্যমে প্রথম ব্যাপক পরিচিতি পান। ২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন। পরে এই আন্দোলন রাজ্য রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে ভূমিকা রাখে এবং ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে।
পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্নের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী দলীয় সরকারে মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, বিশেষ করে নেতৃত্ব কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে মতবিরোধ বাড়তে থাকে।
২০২০ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সব পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরে ২০২১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় বিরোধী দল নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন দলে যোগ দেন। ওই বছরই নন্দিগ্রাম আসনে তিনি মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং অল্প ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সামগ্রিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসই পুনরায় ক্ষমতায় আসে এবং মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকেন।
বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগদান পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনলেও রাজ্যের ক্ষমতার কাঠামোতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ঘটেনি।
সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া
আরটিভি/এসকে




