ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভার ‘এনধোলো কুসুমো’ নামে একটি বালিকা ইসলামিক আবাসিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্কুল তত্ত্বাবধায়ক কিয়াই আশারিকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের যৌন লালসা ও ধর্মীয় প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রীদের নির্যাতনের এই ঘটনায় ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল কিয়াই আশারিকে সন্দেহভাজন নিপীড়ক হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের আগেই তিনি বোগর, জাকার্তা ও সলো শহরে আত্মগোপন করেন। অবশেষে গত ৬ মে রাতে মধ্য জাভার ওনোগিরির একটি মসজিদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২ মে বিক্ষুব্ধ জনতা স্কুলটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পাতি পুলিশ প্রধান জাকা ওয়াহিউদি জানান, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০ বার এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আশারি শরীরে ম্যাসাজ করানোর অজুহাতে ছাত্রীদের কক্ষে প্রবেশ করতেন এবং পরে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালাতেন। ভুক্তভোগীর আইনজীবীর দাবি, নিগৃহীত ছাত্রীদের সংখ্যা ৩০ থেকে ৫০ জন হতে পারে। নির্যাতিতদের বেশিরভাগই এতিম ও দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত আশারি নিজেকে ‘নবীর বংশধর’ ও ‘অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী’ বলে পরিচয় দিতেন। তিনি ছাত্রীদের বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় মতবাদ শিখিয়ে বলতেন যে, তার কথা অমান্য করলে তাদের ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে। এর আগে ২০২২ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সামাজিক মর্যাদা ও আপস-মীমাংসার চাপে সাক্ষীরা বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
যৌন সহিংসতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এনধোলো কুসুমো আবাসিক স্কুলটির অনুমোদন বাতিল করেছে ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ২৫২ জন শিক্ষার্থীকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে এবং প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
জাতীয় নারী নির্যাতন কমিশনের সাবেক কমিশনার ইমাম নাহেই জানান, অনেক আবাসিক স্কুলে যৌন নিপীড়নকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে দেখার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। অনেক শিক্ষক মৌখিক হয়রানিকে স্রেফ ‘পাপ’ মনে করেন, অপরাধ নয়। দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় ২০২২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা রোধে আইন করলেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত অনেক স্কুল এর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে গেছে। সরকার এখন সব আবাসিক স্কুলে নতুন ও নৈতিকভাবে সৎ শিক্ষক নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
আরটিভি/এআর




