যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি কিউবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ , ০১:০৩ পিএম


যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি কিউবার
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক আগ্রাসন থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে কিউবার জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওয়াশিংটনে নিযুক্ত দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক লিয়েনিস তোরেস রিভেরা। 

শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত রিভেরা এই মন্তব্য করেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। 

রাষ্ট্রদূত জানান, কিউবা আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে এটি কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নয়। কিউবা কখনোই মার্কিন ভূখণ্ড বা আমেরিকার জনগণের বিরুদ্ধে প্রথমে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেবে না, কারণ তারা কোনো যুদ্ধ চান না।

রাষ্ট্রদূত তোরেস রিভেরা মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিউবার ওপর যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন বা আক্রমণ শেষ পর্যন্ত একটি ভয়াবহ ‘রক্তগঙ্গায়’ রূপ নিতে পারে। হাভানা কোনো পক্ষেই রক্তপাত চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিউবা যেমন নিজের দেশের মাটিতে কোনো কিউবান নাগরিকের মৃত্যু দেখতে চায় না, তেমনি কোনো মার্কিন সেনার জীবনহানিও তাদের কাম্য নয়।

আরও পড়ুন

কিউবার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং নিজস্ব ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকারের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কোনো ধরনের হুমকি নয়।

আমেরিকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধের কারণে কিউবা বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, কিউবা মূলত একটি ছোট দ্বীপরাষ্ট্র এবং তারা শুধু এটাই চায় যেন বাইরের কোনো দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে। কিউবার মানুষ যেভাবে চায়, ঠিক সেভাবেই তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চায় এবং এর জন্য তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত। বর্তমান এই মানবিক সংকটের মধ্যেও মার্কিন চাপ মোকাবিলা করে দেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলা ছিল কিউবার প্রধান জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশ। মাদুরোর পতনের পর মার্কিন প্রশাসন কিউবাকে তেল সরবরাহ বা বিক্রি করার বিষয়ে যেকোনো দেশের ওপর চড়া শুল্ক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয়। এর ফলে কিউবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং দেশটির অর্থনীতি এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়। এমন এক বৈরী পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় কিউবা তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

আরটিভি/এআর  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission