যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদোল রহিম মোসাভির শেষ বার্তা প্রকাশ করেছে দেশটি।
দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ বার্তা প্রকাশ করেছে।
শনিবার (১৬ মে) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাসনিম নিউজ একটি লেখা প্রকাশ করেছে। এটিকে ইরানের সাবেক সেনাপ্রধান মোসাভির মৃত্যুর আগে লেখা শেষ হাতে-লেখা বার্তা বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনী ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালানোর ঠিক আগে তিনি এই নোটটি লিখেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বার্তায় তিনি লিখেছেন, পৃথিবী আসলে তুচ্ছ জিনিস। কারণ তুমি যদি পুরো পৃথিবীও অর্জন করো, তবুও কিছুই অর্জন করলে না। আবার এটাই পৃথিবীর ভালো দিক যে, তুমি যদি সবকিছু হারিয়েও ফেলো, তবুও আসলে কিছুই হারাও না।
ইরানে চালানো ওই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। দুটি মার্কিন সূত্র ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা চালানোর সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ওই হামলায় খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর।
ইরানের সূত্র রয়টার্সকে জানায়, হামলার ঠিক আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন।
হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল আল-জাজিরা।
স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদটি ধসে গেছে। এর চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যায়, সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরটিভি/এসএস



