৪ বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল করে গণধর্ষণ: বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করলেন ২ বোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ০৪:৫৩ পিএম


৪ বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল করে গণধর্ষণ: বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করলেন ২ বোন
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজস্থানের যোধপুর জেলায় এক নারীকে ব্লাকমেইল করে চার বছর ধরে গণধর্ষণ করার পর তার আত্মহত্যার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েও বিচার না পেয়ে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ওই নারীর ছোট বোন।

গত মার্চ মাসে বড় বোনের আত্মহত্যার পর, সম্প্রতি ছোট বোনও আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজপূত সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চার বছর আগে স্থানীয় একটি 'ই-মিত্র' সেবা কেন্দ্রের অপারেটর মহিপাল ভুক্তভোগী বড় বোনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করেন। এরপর সেই ভিডিওর সূত্র ধরে মহিপাল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘ চার বছর ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ আত্মসাৎ এবং দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ বড় বোন আত্মহত্যা করেন। এরপর ১১ এপ্রিল ছোট বোন বাদী হয়ে মহিপাল, শিবরাজ, গোপাল, ভিজারাম, দিনেশ, মনোজ এবং পুখরাজসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। সে সময় তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, বিচার না পেলে তিনিও নিজের জীবন শেষ করে দেবেন।

তবে বড় বোনের মৃত্যুর পরও অপরাধীদের তাণ্ডব থামেনি। ছোট বোনের অভিযোগ ছিল, মামলা করার পর আসামিরা তার বোনের আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকেও যৌন নিপীড়ন করা শুরু করে। আসামিরা প্রকাশ্যেই তাকে হুমকি দিতেন এবং অহংকার করে বলতেন যে, পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না।

পরে গত শুক্রবার নিজের প্রতিবাদ ও দাবি প্রশাসনের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে পড়েন ওই তরুণী। সেখানে তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং বিষপান করেন।

এই ঘটনার পর যোধপুরের মারওয়ার রাজপূত সমাজসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। নিহতের মরদেহ যে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল, তার বাইরে বিশাল জনতা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

মারওয়ার রাজপূত সোসাইটির সভাপতি হনুমান সিং খাংটা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ শুরু থেকেই আসামিদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং চরম গাফিলতির কারণেই আজ দুটি নিরীহ প্রাণ ঝরে গেল।

আরও পড়ুন

বিক্ষুব্ধ জনতা এবং নিহতের পরিবার অবিলম্বে সব আসামির গ্রেপ্তার এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবারটি মরদেহের ময়নাতদন্তের অনুমতি দেয়।

যোধপুরের পুলিশ সুপার পিডি নিত্যা জানিয়েছেন যে, মূল অভিযুক্ত মহিপালসহ দুজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বাকি অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হচ্ছে।

ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission