ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ , ১১:১০ এএম


ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত
ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন-তেহরান চলমান কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে জটিল মোড়ে পৌঁছেছে। ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ। এসব শর্তের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো-ইরানের উৎপাদিত প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তরের দাবি।

রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আওতায় থাকা একাধিক স্থাপনার মধ্যে মাত্র একটি কেন্দ্র সচল রাখার অনুমতি দিতে চায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্তত ২৫ শতাংশ অবমুক্ত করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অতীতের নিষেধাজ্ঞা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইরানের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনের বিষয়টিকেও এই আলোচনার অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন শর্ত মেনে নিলেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হুমকি পুরোপুরি দূর হবে না।

এদিকে মার্কিন অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে ইরানের গণমাধ্যম ও সরকারি মহল। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের এক সম্পাদকীয়তে অভিযোগ করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জন করতে না পারা সুবিধা এখন আলোচনা টেবিলে আদায় করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ক্যালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব না মানলে ভবিষ্যতে মার্কিন জনগণকে “চড়া মূল্য” দিতে হতে পারে।

আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য ইরানও পাঁচটি পূর্বশর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলি হামলা বন্ধ, ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি তহবিল মুক্ত করা এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান।

ইরান আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। ইরানের সামরিক বাহিনীও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন কোনো হামলা হলে আরও বিধ্বংসী পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটন কূটনীতিকে সামরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।

আরও পড়ুন

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে হামলা চালালে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় দেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান থাকায় দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission