ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

যেসব দেশে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টের জন্য হচ্ছে জেল-নির্বাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়ার জেরে গ্রেফতার, কারাদণ্ড, বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব পদক্ষেপকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর দমননীতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশেষ করে কুয়েত ও বাহরাইনে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, ইনফ্লুয়েন্সার এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করা, ভুয়া খবর ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উসকে দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের নিরাপত্তা আদালত গত ২৩ এপ্রিল সামাজিক মাধ্যম-সম্পর্কিত মামলায় ১৩৫ জনের বিরুদ্ধে রায় দেয়। এর মধ্যে ১৭ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একজন পলাতক আসামিকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০৯ জনকে পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নয়জনকে খালাস দেওয়া হয়।

খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক আহমেদ শিহাব-এলদিন। পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুয়েতে গিয়ে তিনি আটক হন। তার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ৫২ দিন আটক থাকার পর তাকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর পর কুয়েত নতুন এক ডিক্রি জারি করে, যেখানে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন তথ্য প্রকাশের জন্য তিন থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ে বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কুয়েতি নাগরিক জানিয়েছেন, শুধু পোস্ট করা নয়, কোনো পোস্টে লাইক দেওয়া বা প্রতিক্রিয়া জানানোর কারণেও মানুষকে আটক করা হচ্ছে। এমনকি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর আশঙ্কায় শোক প্রকাশ করাও নজরদারির আওতায় এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বেশিরভাগ আটক ব্যক্তি শিয়া সম্প্রদায়ের হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। কিছু অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আটক ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

কুয়েতের নতুন নাগরিকত্ব আইনের ১৩ নম্বর ধারায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, ধর্ম অবমাননা বা দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থার ক্ষতির অভিযোগে নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। ১৪ নম্বর ধারায় বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করলে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের বিধান রয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এসব আইনি পরিবর্তনের ফলে সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং মানুষের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাহরাইন সরকার জানিয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন ইরানি কর্মকাণ্ডকে সমর্থন এবং বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফার নির্দেশনায় জাতীয়তা আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীর সহায়তা নিতে দেওয়া হয়নি এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর বাহরাইনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, যুদ্ধবিরোধী মত প্রকাশ এবং অনলাইনে ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করার অভিযোগে দমন-পীড়ন বেড়েছে।

একজন বাহরাইনি কর্মীর দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩০৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

বাহরাইনের সরকার বলছে, গ্রেফতারগুলো শুধুমাত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের মতো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অনলাইনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বল করার অভিযোগে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা হিজবুল্লাহর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
আরও পড়ুন
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধে ফ্রান্সে আইন পাস
সামাজিক মাধ্যমে সতীর্থদের আনফলো করছেন রোনালদো, নতুন বিতর্ক
প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলা চালানো হবে: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
যুদ্ধে ইরান না ইসরায়েল—কাকে বিজয়ী মনে করেন ইসরায়েলিরা