ইবোলা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১২:৩৩ পিএম


ইবোলা ভাইরাস কী, কীভাবে ছড়ায়?
ইবোলা ভাইরাস। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম আতঙ্কের নাম ইবোলা ভাইরাস। এটি অত্যন্ত বিরল কিন্তু ভয়াবহ সংক্রামক একটি ভাইরাস, যা ইবোলা ভাইরাস ডিজিজ (ইভিডি) বা ইবোলা হেমোরেজিক ফিভার নামে পরিচিত প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে। উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি একে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করেছে।

বিশেষ করে আফ্রিকার হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন  ইবোলা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

ইবোলা একটি জুনোটিক ভাইরাস। অর্থাৎ, এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। এছাড়া শিম্পাঞ্জি, গোরিলা ও বানরের মতো বন্যপ্রাণীর রক্ত বা শরীরের তরলের মাধ্যমেও ভাইরাসটি মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে।

একবার মানুষ আক্রান্ত হলে, এরপর এটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল, মূত্র, বুকের দুধ কিংবা বীর্যের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শরীরের কাটা অংশ, চোখ, নাক বা মুখের শ্লেষ্মা ঝিল্লির মাধ্যমে ভাইরাস সহজেই প্রবেশ করতে পারে।

এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত কাপড়, বিছানাপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ব্যবহৃত সুঁই থেকেও রোগ ছড়াতে পারে।

ইবোলা ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর সাধারণত ২ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত নীরবে অবস্থান করতে পারে। এই সময়কে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়। এরপর ধীরে ধীরে রোগের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- হঠাৎ জ্বর, তীব্র দুর্বলতা ও ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও গলা ব্যথা।

পরবর্তীতে রোগীর মধ্যে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, কিডনি ও লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণও শুরু হয়। এসময় বমি ও মলের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। পাশাপাশি নাক, মাড়ি বা শরীরের অন্যান্য অংশ থেকেও রক্তপাত হতে পারে।

ইবোলা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা এখনও সীমিত। তবে বর্তমানে কিছু টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। রোগীকে দ্রুত শনাক্ত করে আইসোলেশনে রেখে নিবিড় পরিচর্যা দেওয়া হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি বা বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই ইবোলা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission