ভারতের লাদাখ অঞ্চলের লেহ জেলায় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় হেলিকপ্টারটিতে ছিলেন ৩ সেনা কর্মকর্তা। তবে, ভাগ্যক্রমে তারা সবাই প্রাণে বেঁচে যান।
শনিবার (২৩ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
চিতা নামের হেলিকপ্টারটিতে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, একজন মেজর এবং একজন মেজর জেনারেল ছিলেন এবং এটি গত বুধবার (২০ মে) বিধ্বস্ত হয়। তবে শনিবার সকালে কর্মকর্তারা এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
এক-ইঞ্জিন বিশিষ্ট হেলিকপ্টারটি চালাচ্ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং মেজর, আর ৩য় ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল শচীন মেহতা যাত্রী হিসেবে ছিলেন। দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানি ঘটেনি, তারা তিনজনই আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর অন্য দুই কর্মকর্তার সঙ্গে মেজর জেনারেল মেহতার একটি সেলফি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হেলিকপ্টারটির কাছে পাথরের ওপর বসে আছেন।
দুর্গম পার্বত্য পরিবেশ এবং পুরোনো চিতা হেলিকপ্টার বহরের ওপর পরিচালনগত চাপের কথা বিবেচনা করে তাদের এই বেঁচে থাকাকে একটি ‘অলৌকিক ঘটনা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনাটি চিতা হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।
পাঁচ-আসনের হেলিকপ্টার ‘চিতা’-কে বিশ্বের অন্যতম সেরা উচ্চ-উচ্চতায় উড়তে সক্ষম হেলিকপ্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই হেলিকপ্টারগুলো ১৯৮৪ সালে সিয়াচেন হিমবাহে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বেশ কার্যকর হলেও, বিগত কয়েক বছরে বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে আকাশযানটি। এই দুর্ঘটনাগুলোতে অনেক পাইলট প্রাণও হারিয়েছেন।
তাই এই আকাশযানটিকে এখন পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড দ্বারা নির্মিত দেশীয় হালকা ইউটিলিটি হেলিকপ্টার (এলইউএইচ) দিয়ে একে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে সীমিত-উৎপাদনের ছয়টি এলইউএইচের অর্ডার দিয়েছে, যেগুলো সর্বোচ্চ ২২০ কিমি/ঘণ্টা গতি, ৬.৫ কিমি সার্ভিস সিলিং এবং ৩৫০ কিমি অপারেশনাল রেঞ্জ অর্জনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
আরটিভি/এসএস



