ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের প্রশংসা জাতিসংঘের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্যসহ ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার (২৯ মে) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষ্যে বিশ্ব সংস্থাটি শান্তিরক্ষীদের নিষ্ঠা ও সাহসিকতার এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি প্রদান করে।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)। জাতিসংঘ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শান্তিরক্ষীদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে বিশ্বশান্তিতে আর্থিক ও রাজনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় শুক্রবার (২৯ মে) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের কাজ শান্তিতে বিনিয়োগের তাগিদকে আরও জোরালো করেছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছেন।

তারা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছেন।

তিনি আরও বলেন, নিজ দেশ থেকে বহু দূরে গিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকায় তারা শত্রু পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো, ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর কাজে তদারকি, নির্বাচন আয়োজনের সহায়তা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরিতে সহায়তা করছেন।

গুতেরেস অতীত ও বর্তমান সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যাদের মধ্যে গত বছরই প্রাণ হারিয়েছেন ৫৯ জন।

তিনি বলেন, শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারো মৃত্যুই কাম্য নয়।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান মহাসচিব।

মহাসচিব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় পরীক্ষিত ও সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। শান্তিরক্ষীরা যাতে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করতে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

গুতেরেস বলেন, শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের সবসময় সমর্থন জানানো উচিত।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনের সময় শান্তিরক্ষীরা নিয়মিত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

দিবসটি উপলক্ষ্যে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন গুতেরেস। নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে নিহত কর্মীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানেও সভাপতিত্ব করবেন।

অনুষ্ঠানে ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও দেওয়া হবে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে জনবল নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
আফগানিস্তানে পোশাকের কারণে গ্রেপ্তার হচ্ছেন নারীরা: জাতিসংঘের রিপোর্ট
নভেম্বর ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন