শি জিনপিং ধূমপান ছাড়লেও ছাড়েনি চীন, বিশ্বের অর্ধেক সিগারেটই পোড়ে দেশটিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০৯:৪৯ এএম


শি জিনপিং ধূমপান ছাড়লেও ছাড়েনি চীন, বিশ্বের অর্ধেক সিগারেটই পোড়ে দেশটিতে
ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বহু বছর আগে ধূমপান ছেড়েছিলেন এবং একসময় দেশটিতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই অগ্রগতি খুবই ধীর হয়ে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সিগারেট ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে এখনো শীর্ষে রয়েছে চীন।

২০১২ সালে বেইজিংয়ে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিল গেটসের সঙ্গে এক বৈঠকে ধূমপান নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ধূমপান ছাড়ার পর তিনি নিজেকে অনেক বেশি সুস্থ অনুভব করছেন এবং তামাককে চীনের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। সেদিন তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। পরে তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকেও ধূমপানবিরোধী প্রচারণায় দেখা যায়। 

কিন্তু সেই ঘটনার পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চীনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

চীনা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের সাবেক কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠিত এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীনে সিগারেট ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তা কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। বর্তমানে বিশ্বে উৎপাদিত সিগারেটের প্রায় অর্ধেকই ব্যবহৃত হয় চীনে।

আরও পড়ুন

চীনে বছরে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি সিগারেট বিক্রি হয়। যদিও ধূমপায়ীর হার কিছুটা কমেছে, তবে মোট সিগারেট বিক্রি ক্রমাগত বেড়েছে। দেশটিতে সিগারেটের দামও তুলনামূলক কম, ফলে ব্যবহার কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চীনে একটি প্যাকেট সিগারেটের গড় দাম প্রায় ৩ ডলার, যা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় অনেক কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের রাষ্ট্রীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দেশটির বড় তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবই ধূমপান কমাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই খাত থেকে সরকারের বিপুল রাজস্ব আয় হয়, যা দেশের মোট আয়ের একটি বড় অংশ। শুধু ২০২৫ সালেই এ খাত থেকে প্রায় ২৪৪ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা দেশটির মোট সরকারি আয়ের প্রায় ৭ শতাংশের সমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাক খাত থেকে আসা রাজস্ব এখন চীনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক অঞ্চলে স্থানীয় বাজেটের বড় অংশই আসে তামাক কর থেকে।

ফলে ধূমপান কমানোর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে নানা বাধা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপের সময় তামাক খাত থেকে আসা বিপুল অর্থের কারণে সরকার কঠোর ধূমপানবিরোধী নীতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে। বহু বছর ধরে দেশজুড়ে ঘরের ভেতর ধূমপান নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক এলাকায় এখনও রেস্তোরাঁ, বার ও জনসমাগমস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যায়। 

তবে আশার খবরও আছে। তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ সামাজিক মাধ্যমে ধূমপানবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে। তারা প্রকাশ্যে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছে। তরুণদের মধ্যে ধূমপানের হারও কিছুটা কমছে। বিশেষ করে তরুণ নারী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মীরা ধূমপানবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছেন।

চীনা সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ধূমপায়ীর হার ২৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, এই লক্ষ্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী তামাক শিল্প, শিথিল আইন প্রয়োগ এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা—এই তিন কারণেই চীনে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission