ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ তাপদাহে ভেঙে যাচ্ছে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড। কয়েকটি দেশে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। তীব্র গরমে স্কুল বন্ধ, যাতায়াতে বিধিনিষেধ এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
বুধবার (২৪ জুন) ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রোম ও মিলানসহ ১৬টি শহরে লাল সতর্কতা জারি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চরম গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তীব্র গরমের কারণে যুক্তরাজ্যে কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ভ্রমণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চ তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও বেশি থাকায় গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।
এদিকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) ফ্রান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের রেকর্ড হয়েছে। দেশটিতে গত কয়েক দিনে নজরদারিবিহীন জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসেও বুধবার থেকে অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত চরম গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানী আমস্টারডামের কিছু উন্মুক্ত সুইমিংপুলে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচলও কমিয়ে আনা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে তাপপ্রবাহ পূর্ব ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়বে। পোল্যান্ডে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রার আশঙ্কায় উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একইভাবে ক্রোয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল ও হাঙ্গেরিতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে।
ফ্রান্সের পরিবেশমন্ত্রী মনিক বারবু জানিয়েছেন, দেশটিতে তাপদাহ আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদিও আগামী সপ্তাহে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, এরপর আবারও চরম গরম ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমণ্ডলের বিশেষ অবস্থা ও বায়ুপ্রবাহের কারণে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় একই স্থানে আটকে থাকছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
তীব্র গরমের প্রভাবে লন্ডনে বায়ুদূষণের উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এছাড়া সৈন্য ও ঘোড়ার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজধানী লন্ডন ও উইন্ডসরে সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক কিছু কার্যক্রমও বাতিল করা হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ




