ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা জেন-জি ও যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবার রাজপথে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির লক্ষ্য দেশটির শিক্ষা মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এমনটাই জানা যায়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে রয়টার্সকে জানান, তিনি নিজে ভারতে ফিরে গিয়ে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেবেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই আন্দোলন করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই সংগঠনের অনুসারীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২ কোটির বেশি ছাড়িয়েছে। মূলত ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং শিক্ষা খাতে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের জন্ম।
বিশেষ করে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়নে ভুলের অভিযোগে সম্প্রতি হাজারো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই আন্দোলন আরও জোরদার হয়। প্রায় আট লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে অনলাইনে স্বাক্ষর দিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে রয়টার্সকে বলেন, “কতদিন আমরা ভয়ের মধ্যে থাকব? এবার জবাবদিহির সময় এসেছে।” তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ভারতে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
সরকার ইতোমধ্যেই সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে অভিজিৎ অভিযোগ করেছেন, অজ্ঞাত হ্যাকারদের মাধ্যমে তার দলের ইনস্টাগ্রাম পেজ দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভারতের একজন শীর্ষ মন্ত্রী সংগঠনটিকে বিদেশি প্রভাবিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ভারতের তরুণ সমাজের বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ




