ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

শিশুদের মোবাইল-টিভি দেখা নিয়ে জানা গেল যে ভয়াবহ তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১১:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের মোবাইল বা টিভি দেখতে দিলে এটি তাদের স্বাস্থ্য ও জীবন ব্যবস্থায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এরফলে এ বয়সী শিশুদের এসব ডিভাইস থেকে দূরে রাখা উচিত। সম্প্রতি চালানো এক গবেষণায় এ নিয়ে কিছু ভয়াবহ ফলাফল দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ‘১০০১ ক্রিটিক্যাল ডেইস’ নামে একটি ওয়েবসাইটে গবেষণার তথ্য ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। আর গবেষণা চালিয়েছে যুক্তরাজ্যের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা বলেছেন, এই সময়ে মোবাইল ও টিভি দেখতে দিলে শিশুদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার রাফে কায়টন এই গবেষণার সহ-নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি বলেছেন, তারা দেখতে পেয়েছেন বাবা-মায়ের এসব ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে গাইডিংয়ের অভাব আছে। এতে করে তারা নিজেদের অজান্তে নিজ শিশুকে মোবাইল-টিভির সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর স্বভাব এবং সম্পর্ক তৈরি করে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

শিশুদের মধ্যে যেসব সমস্যা দেখা দেয়

গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল-টিভি দিলে বাবা-মা বা যিনি শিশুকে লালন-পালন করেন তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ কমে যায়, শিশুদের স্বাভাবিক খেলাধুলা করার সময় কমে যায় এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর— তাদের ভাষার বিকাশ সীমিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শিশুরা ভাষা শিখতে পারে না।

এরসঙ্গে এত কম বয়সে এসব ডিভাইস ব্যবহার করতে দিলে শিশুদের মধ্যে অতিরিক্ত উদ্দীপনা এবং ঘুমের ব্যঘাত দেখা দেয়। পাশাপাশি তাদের চোখের ওপর খারাপ প্রভাব পড়ে এবং শিশু বয়সে স্থুলতা বা ওজন বৃদ্ধি দেখা দেয়।

গবেষণায় আরও ভয়ঙ্কর তথ্য হিসেবে বেরিয়েছে, দুই বছরের কম বয়সের যেসব শিশুকে মোবাইল ও টিভি দেখতে দেওয়া হয় তারা আরাম ও প্রশান্তির জন্য এসব ডিভাইসকে খোঁজে। যেখানে আরাম-প্রশান্তির জন্য বাবা-মাকে খোঁজার কথা তাদের।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নবনির্মিত সেতু পেরিয়ে চীন সফরে কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শনিবার (২৪ অক্টোবর) নতুন সেতু দিয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন।
নবনির্মিত সেতু পেরিয়ে চীন সফরে কিম জং উন
স্বামীর ‘আদরে’ ভাঙল স্ত্রীর পাঁজরের ৫ হাড়
শীত অনুভব করছিলেন স্ত্রী। তাকে উষ্ণতা দিতে দুই হাতে জড়িয়ে ধরেন স্বামী। কিন্তু ভালোবাসার সেই আলিঙ্গনই মুহূর্তে রূপ নেয় যন্ত্রণায়। তীব্র ব্যথায় মাটিতে বসে পড়েন স্ত্রী। পরে হাসপাতালে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার পাঁজরের পাঁচটি হাড় ভেঙে গেছে এবং আরও একটি হাড়ে চিড় ধরেছে।
স্বামীর ‘আদরে’ ভাঙল স্ত্রীর পাঁজরের ৫ হাড়
আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা
ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড় জেলার বহু নারী আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে গিয়ে নিজেদের প্রজননস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। মাসিকের ব্যথা, বিশ্রামের অভাব ও কঠোর শ্রমের কারণে কেউ কেউ জরায়ু অপসারণের কথা ভাবছেন, আবার অনেকে অস্ত্রোপচারও করিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব শ্রমিকের দুর্বিষহ জীবনের চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আনুমানিক ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজে নিয়োজিত। তাদের অনেকেই দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা কাজ করে পান মাত্র ৪০০ রুপি। শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মহারাষ্ট্রের বীড় জেলা থেকে কাজের সন্ধানে অন্য এলাকায় যান। নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের অভাব ও পরিবারের ভরণপোষণের চাপ তাদের এই কঠিন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করে। কর্ণাটকের রামানালে ভোর ৪টা থেকেই শুরু হয় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিকও প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজের প্রস্তুতি নেন। ঋণ শোধ করতে নিজ গ্রাম থেকে ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন তিনি। আখ কাটার নারী শ্রমিকদের জন্য শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি মাসিক সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ। অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোতে শৌচাগার ও বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছুটি না পাওয়ার চাপ। কাজ থেকে এক দিন বিরতি নিলেই মজুরি কাটা কিংবা জরিমানার মুখে পড়তে হয় শ্রমিকদের। ফলে মাসিকের ব্যথা বা অসুস্থতা নিয়েও তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ সময় ভারী আখ কাটা, বোঝা বহন ও ট্রাকে আখ তোলার কাজ করতে গিয়ে বাড়ছে শারীরিক দুর্ভোগ। পূর্ণিমা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ব্যথা থেকে মুক্তি পেলে তার জন্য অনেক বড় সহায়তা হতো। দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে রেহাই পেতে তিনি জরায়ু অপসারণের কথাও ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কষ্ট কমছে না। এ কাজ চালিয়ে গেলে তা কেবল বাড়বে। এত ভারী ওজন তোলা বন্ধ করতে পারলে হয়তো ভালো হবে। কিন্তু এ কাজ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ বীড় জেলার বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস মৌসুমি আখ কাটা। প্রতিবছর মুকাদ্দম নামে পরিচিত ঠিকাদারেরা শ্রমিকদের সংগঠিত করেন। তারা চিনিকলের সঙ্গে যোগাযোগ, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং অগ্রিম অর্থের জোগান দেন। পরে সেই অর্থ শোধ করতে শ্রমিকদের মৌসুমজুড়ে কাজ করতে হয়। স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে গঠিত প্রতিটি শ্রমিক দলকে স্থানীয়ভাবে ‘কইতা’ বলা হয়। সাধারণত সাত-আটটি কইতার একটি দলের মধ্যে আয় ভাগাভাগি হয়। প্রতিটি দম্পতির ওপর দৈনিক গড়ে তিন টন আখ কাটার চাপ থাকে। কোনো নারী অসুস্থতার কারণে কাজ করতে না পারলে দলের অন্য শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ে। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে তারা সংশ্লিষ্ট দম্পতির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন। ফলে অসুস্থতা নিয়েও কাজ করতে বাধ্য হন নারী শ্রমিকেরা। সবিতা নামের এক শ্রমিক ২০২৫ সালের মার্চে জরায়ু অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পেটে তীব্র ব্যথা থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজ করতে হয়েছে। ট্রাকে আখ তুলতে মই বেয়ে ওঠার সময় গত বছর তিনবার পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপরও অভিযোগ করার সুযোগ পাননি। সবিতা বলেন, ‘মাঠে কেউ সাহায্য করবে না। তারা একদম বিশ্রাম নিতে দেয় না। আমি এত অসুস্থ ছিলাম, তবু কেউ সাহায্য করেনি।’ পূর্ণিমাও জানান, কাজের মৌসুমে টানা চার থেকে পাঁচ মাস প্রতিদিন কাজ করতে হয়। গত তিন বছর ধরে অবিরাম ব্যথায় ভুগছেন তিনি। জরায়ু অপসারণের কথা ভাবলেও অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে তাকে নতুন করে ঋণ নিতে হতে পারে। তার ভাষায়, ‘নিজের জরায়ু ফেলে দিতেও ঋণ নিতে হয়। মনে হয়, আমার শরীরই ব্যবস্থার দাসে পরিণত হয়েছে।’ ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকারের একটি কমিটি বীড় জেলায় আখ কাটার কাজে নিয়োজিত ৮২ হাজার ৩০৯ জন অভিবাসী নারী শ্রমিকের ওপর জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জনের জরায়ু অপসারণ করা হয়েছে। পরে জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের ৪৫ শতাংশের বেশি শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কথা জানান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার জরায়ু অপসারণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে কিছু উদ্যোগ নেয়। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, বাস্তবে তাদের জীবনযাত্রা ও কর্মপরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। ২০২৫ সালের মার্চে বোম্বে হাইকোর্ট আঞ্চলিক সরকারকে শ্রমিকদের যথাযথ নিবন্ধন, কল্যাণমূলক সুবিধা এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই বছরের নভেম্বরে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের কথা থাকলেও তা প্রকাশিত হয়নি বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট। পূর্ণিমা ও সবিতা দুজনেই জানিয়েছেন, তারা সরকারের কাছ থেকে কোনো কল্যাণ সহায়তা পাননি। দীর্ঘদিনের ব্যথা সামলাতে পূর্ণিমাকে নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি জানান, বছরে এসব ওষুধের পেছনে তার প্রায় ৫০ হাজার রুপি খরচ হয়। তবুও ব্যথা থেকে মুক্তি মিলছে না। পূর্ণিমা বলেন, ‘গ্রামে ফিরে আমাকে অস্ত্রোপচার করাতে হবে, কিন্তু এর জন্য আরও ঋণ নিতে হবে। মনে হয়, আমি যেন কাজ চালিয়ে যেতে পারি, সে জন্যই ব্যবস্থাটা আমার জরায়ুটাই কেড়ে নিচ্ছে।’ প্রতিবেদনটির বিষয়ে বীড় জেলার কালেক্টর বিবেক জনসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে, কোকাকোলা জানিয়েছে, আখ কাটার শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, ছায়াযুক্ত বিশ্রামের স্থান, কাজের উপযোগী সরঞ্জাম এবং নারীদের স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত পণ্যের সুযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক নাগরিক সমাজ সংগঠন সলিডারিদাদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই উদ্যোগে এক লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট পেপসিকোর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল, তবে প্রতিষ্ঠানটি কোনো জবাব দেয়নি। আরটিভি/এসকে
আখ কাটার কাজ চালিয়ে যেতে জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের নারী শ্রমিকরা
ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ট্রাম্পের ফোন
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম নিজের বা যুক্তরাষ্ট্রের নামে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার দাবি, প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই।
ম্যাপে আটলান্টিকের নাম বদলে নিজের নাম বসাতে গুগল সিইওকে ট্রাম্পের ফোন
বাইডেনের ছেলের ল্যাপটপ তদন্তে মিথ্যা বলার অভিযোগে সাবেক দুই এফবিআই কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 
বাইডেনের ছেলের ল্যাপটপ তদন্তে মিথ্যা বলার অভিযোগে সাবেক দুই এফবিআই কর্মকর্তা
আরও পড়ুন
যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে মারধর, যা বললেন শিশুর বাবা
হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৭ শিশুর
জীবন বাজি রেখে আগুনের ধ্বংসস্তূপে ঢুকলেন প্রতিবেশী, বাঁচালেন ৪ বছরের শিশুকে
কীর্তিনাশা নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার